Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা হাসিবুর রহমানের আকস্মিক মৃত্যু: শোকের ছায়া ক্যাম্পাসজুড়ে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা হাসিবুর রহমানের আকস্মিক মৃত্যু: শোকের ছায়া ক্যাম্পাসজুড়ে
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা, রবিবার (৫ অক্টোবর ২০২৫) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান আর নেই। আজ বিকেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ক্যাম্পাস সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার সময় হঠাৎ স্ট্রোক করলে তাঁকে দ্রুত নিকটস্থ একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সহপাঠী ও সহকর্মীরা জানান, হাসিবুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও মিশুক স্বভাবের মানুষ। ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনায়ও মনোযোগী ছিলেন। তাঁর হঠাৎ মৃত্যুতে শিক্ষক, সহপাঠী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে তাঁর মৃত্যুর খবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহপাঠী, রাজনৈতিক সহকর্মী ও বন্ধুদের শোকবার্তায় ভরে যায় টাইমলাইন। অনেকে disbelief ও বেদনার সঙ্গে লিখেছেন— > “এমন এক প্রাণোচ্ছল মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে যেতে পারে, তা কল্পনাতেও আসেনি।” ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতারা এক শোকবার্তায় বলেন, > “হাসিবুর রহমান ছিলেন সংগঠনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। ছাত্র অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।” প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসিবুর রহমান বন্ধুদের সঙ্গে খাবার খেতে বসেছিলেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ তিনি মাথা ঘোরা ও অস্বস্তি অনুভব করেন। তৎক্ষণাৎ তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা জানান—আগেই তিনি মারা গেছেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি আকস্মিক ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির এক বিবৃতিতে বলা হয়, > “একজন তরুণ শিক্ষার্থী ও নেতা হিসেবে হাসিবুরের মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর মতো উদ্যমী ও ইতিবাচক ছাত্রনেতা আজকাল বিরল।” বন্ধুদের ভাষায়, হাসিবুর ছিলেন হাসিখুশি, ভদ্র ও পরোপকারী একজন মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ছাত্র রাজনীতি মানে মানুষের পাশে থাকা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। তাঁর হঠাৎ মৃত্যুর খবরে পরিবারের মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে তাঁর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা হয়েছিল। কেউ ভাবতেও পারেননি, বিকেলেই এমন মর্মান্তিক সংবাদ আসবে। রাতেই তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে। এক সময়ের প্রাণবন্ত, উদ্যমী, স্বপ্নময় এই তরুণ নেতার চলে যাওয়া যেন মনে করিয়ে দেয়—জীবন কতটা অনিশ্চিত! আমরা সবাই প্রতিদিন পরিকল্পনা করি ভবিষ্যতের, কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ কতটা আমাদের হাতে—তা কে জানে? শেষে একটাই প্রার্থনা— আল্লাহ তায়ালা হাসিবুর রহমানের সমস্ত ভুল-ত্রুটি, গুনাহখাতা ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ