কাঠালিয়ায় স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত: প্রধান শিক্ষককে আক্রমণ ও স্কুলভাঙচুর
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভয়াবহ একটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন স্থানীয় দুর্বৃত্ত দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়মিতভাবে বাজারে, পথঘাটে ও স্কুল সংলগ্ন এলাকায় অনৈতিক প্রস্তাব ও আপত্তিকর কথা বলে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।
ঘটনাটি ঘটেছে ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে। প্রধান শিক্ষক এ কে এম শামীম মোল্লা বলেন, বুধবার (১৫ অক্টোবর) ওই দুষ্কৃতীরা স্কুলের ভিতরে আড্ডা দেয়; তাদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরের দিন সকালে আবার একই দম্পদ স্কুলে ঢুকে পড়লে শিক্ষক তাদের কেন এসেছে জানতে চান। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
"আমি তারা কেন আবার ক্যাম্পাসে এসেছো জানতে চাইলে একজন তাদের মধ্যে স্কুল জানালার শিক ভেঙে আমার পিঠে আঘাত করেন" — জানান প্রধান শিক্ষক।
ঘটনাস্থলেই পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করে এবং সংঘবদ্ধভাবে ফিরে আসা অপর যুবকেরা সঙ্গে নিয়ে কুপিয়ে-পেটানো, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দরজা-জানালা ভাঙচুর শুরু করে। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা হতবাক হয়ে পড়েন; পরে স্থানীয়রা আশপাশ থেকে এসে হস্তক্ষেপ করলে রাব্বী ও দুলাল হাওলাদার নামে দুইজনকে আটক করে।
স্থানীয়দের মোতাবেক আগানিরা আগে থেকে মাদকসেবন ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল — এমন অভিযোগ থাকায় (২০২২ সালে) রাব্বী হাওলাদারকে এক সময়ে বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। বিষয়টি পুনরায় উত্তাপে উঠে আসে এবং এলাকাবাসী এখন দ্রুত আইনি ব্যবস্থা ও বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে; যদি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেন, তাহলে ভবিষ্যতে এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধ করা সম্ভব হবে।
একদিকে আহত প্রধান শিক্ষক চিকিৎসা নিচ্ছেন; অন্যদিকে স্কুলের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, তারা আশা করেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে আরও তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেটে জানানো হবে।


0 মন্তব্যসমূহ
“আমাদের ব্লগে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ! দয়া করে আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং বিনম্রভাবে অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিন।”