ঝালকাঠির ৪ উপজেলার ৬২ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৩ জন নির্বাচিত বাফুফে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে

কাঠালিয়া ফুটবল একাডেমির ৫ জন নির্বাচিত — জেলা জুড়ে আনন্দের বন্যা
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি জেলার ফুটবল অঙ্গনে আবারও আনন্দের জোয়ার। জেলার চারটি উপজেলা—ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়া—থেকে মোট ৬২ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের মধ্যে থেকে বাছাই প্রক্রিয়া শেষে ২৩ জন খেলোয়াড়কে মনোনীত করা হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আশা ও উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছে।
বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয় বাফুফের তত্ত্বাবধানে, জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও স্থানীয় কোচদের সমন্বয়ে। একাধিক ধাপে শারীরিক সক্ষমতা, কৌশলগত দক্ষতা, বল নিয়ন্ত্রণ, মাঠে অবস্থান সচেতনতা এবং টিমওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়।
কাঠালিয়া ফুটবল একাডেমির ৫ খেলোয়াড়ের উজ্জ্বল সাফল্য
এই বাছাইয়ে সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে কাঠালিয়া উপজেলা ফুটবল একাডেমি থেকে। একাডেমির মোট পাঁচজন খেলোয়াড় বাফুফের অনূর্ধ্ব-১৭ দলে জায়গা করে নিয়েছেন। এটি শুধু কাঠালিয়া নয়, পুরো ঝালকাঠি জেলার জন্যই এক বড় অর্জন।
কাঠালিয়া ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তরুণদের ফুটবল প্রশিক্ষণ ও বিকাশে কাজ করে আসছে নিরলসভাবে। একাডেমির পরিচালক ফয়সাল আহমেদ এর নেতৃত্বে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কোচিং ক্যাম্প, ফিটনেস ক্লাস এবং প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের গড়ে তোলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানে।
ফয়সাল আহমেদ বলেন,
> “আমাদের একাডেমির ছেলেরা সব সময় মাঠে কঠোর পরিশ্রম করে। আজ তাদের এই অর্জন আমাদের পরিশ্রমের ফল। আমি বিশ্বাস করি, এই তরুণরাই একদিন বাংলাদেশের ফুটবলকে আরও উঁচু স্থানে নিয়ে যাবে।”
জেলার অন্য উপজেলা গুলোতেও প্রতিভা ছড়ানো
ঝালকাঠি জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকেও তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা এবার নিজেদের মেলে ধরেছেন। নলছিটি ও রাজাপুর থেকে নির্বাচিত কয়েকজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের নজর কেড়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক ক্যাম্প আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তরুণদের মধ্যে নতুন অনুপ্রেরণা
এই অর্জন জেলার তরুণ ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে নতুন করে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়া অনেক কিশোর এখন আবার মাঠে ফিরছে, স্বপ্ন দেখছে জাতীয় দলে খেলার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঝালকাঠির তরুণদের এই সাফল্যকে ঘিরে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বন্যা বইছে।
কাঠালিয়া ফুটবল একাডেমির এক খেলোয়াড় বলেন,
> “আমরা স্বপ্ন দেখি জাতীয় দলের হয়ে খেলার। এই সুযোগ আমাদের জন্য বড় প্রেরণা। এখন শুধু মাঠে আরও ভালো খেলার চেষ্টা করবো।”
জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ঝালকাঠি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জানান,
> “আমরা প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণ ও ট্যালেন্ট হান্ট চালিয়ে যাচ্ছি। এবার যে ২৩ জন নির্বাচিত হয়েছে, তারা ঝালকাঠির গর্ব। ভবিষ্যতে আরও বেশি খেলোয়াড় যেন জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ পায়, সেজন্য জেলা প্রশাসন ও বাফুফের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।”
সমাপ্তি
বাফুফে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ঝালকাঠির ২৩ জন খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি স্থানীয় ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক সাফল্য। বিশেষ করে কাঠালিয়া ফুটবল একাডেমির ৫ জন খেলোয়াড়ের অর্জন প্রমাণ করে, যথাযথ প্রশিক্ষণ, ধৈর্য ও পরিশ্রম থাকলে ছোট জেলা থেকেও বড় স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।
এই সাফল্যের কৃতিত্ব শুধু খেলোয়াড়দের নয়, বরং তাদের প্রশিক্ষক, পরিবার ও বিশেষ করে কাঠালিয়া ফুটবল একাডেমির পরিচালক ফয়সাল আহমেদের নিবেদিত প্রচেষ্টার ফল।
সব নির্বাচিত খেলোয়াড়দের জন্য রইলো আন্তরিক শুভকামনা — তারা যেন একদিন বাংলাদেশের ফুটবলের গর্ব হয়ে ওঠে।
নতুন সংবাদ পেতে চোখ রাখুন Jhalokhati news
0 মন্তব্যসমূহ
“আমাদের ব্লগে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ! দয়া করে আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং বিনম্রভাবে অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিন।”