Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

চট্টগ্রাম ইপিজেড ৫ নম্বর রোডে ভয়াবহ আগুন

চট্টগ্রাম ইপিজেড ৫ নম্বর রোডে ভয়াবহ আগুন

চট্টগ্রাম ইপিজেড ৫ নম্বর রোডে ভয়াবহ আগুন

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রামের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরের দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে আগুনের তীব্রতা এমন ছিল, ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ ক্ষেত্রের বাইরে চলে গিয়েছিল। এ ঘটনাটি একাধিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রথম আলো, ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, দুপুর আড়াইটার দিকে **ইপিজেড ৫ নম্বর রোডে অবস্থিত ‘আডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল’** নামে একটি কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটে। 0

কারখানাটিতে মূলত মেডিকেল এক্সেসরিজ ও কিছু টেক্সটাইল পণ্যের উৎপাদন হতো। আগুনের সূত্রপাত হওয়ার মাত্র সময়ের মধ্যে ধোঁয়া ও লাল জ্বলন্ত শিখা পুরো ভবনকে গ্রাস করে ফেলেছে। 1

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, এ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে **১৪–১৫টি ইউনিট** কাজ করেছে। 2 তারা জানায়, উঁচু মেঝুর দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র ধোঁয়া ও জ্বালাময় গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে কাজকে কঠিন করে তুলেছে। 3

ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ইতিমধ্যে আহত বা প্রাণহানির কোনো খবরে পৌঁছায়নি। তবে কারখানাতে কতজন কর্মী ছিলেন, কেউ আটকা পড়েছে কি না — এসব তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। 4

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আগুন লাগার পর মুহূর্তেই জ্বলন্ত শিখা ছড়িয়ে পড়ে, ভবনটি থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলির স্তূপ ছড়িয়ে যায় চার দিকে। কেউ কেউ বলছেন, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে কারণ অগ্নিকাণ্ড এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে সাধারণ যন্ত্রপাতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল না।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো — **“আল্লাহ ছাড়া রক্ষা করার কেউ নাই”** — এমন এক আবেগপূর্ণ কথা, যা আজকের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার শোনা গেছে। আগুনের তাণ্ডবের মধ্যে মানুষ হাতে কাঁপন ধরে প্রার্থনা করেছে, নিঃশব্দে কোনো উপায় নেই, আত্মবিশ্বাস ছিল শুধু ঈশ্বরের প্রতি।

সংগৃহীত ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি-ভিডিওতে দেখা গেছে, অগ্নিজগৎ থেকে ধোঁয়া, শিখা ও বিকট শব্দ মিলেমিশে এমন এক দৃশ্য তৈরি করেছে যা চোখ কপালে তুলে দেয়। 5 অনেকেই ব্যাটারি চালিত ল্যাম্প বা মোবাইল ফোনের আলো দিয়েও উদ্ধার কার্যক্রমে হাত লাগিয়ে দিয়েছেন।

নির্বাহী কর্তৃপক্ষ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, আগুন দমন করা না হলে পাশের ভবন এবং পরবর্তী কারখানাগুলোর জন্যও বিপদ হতে পারে। এজন্য তারা দ্রুত দমকল তল্লাশি বৃদ্ধি করেছিল এবং আশেপাশের এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে। 6

এই দুর্ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, কোনো দুর্যোগ-পরিস্থিতিতে মানবসভ্যতা কতটা ক্ষণস্থায়ী, এবং প্রকৃতির সামনে আমরা কতটা অপরিহার্যভাবে দুর্বল। আজকের দিনটি আমাদের শেখায় — প্রস্তুতি, সতর্কতা ও দ্রুত সাড়া জরুরি, তবে সবকিছুর ওপরে — ইমান ও দোয়া।

আমরা প্রার্থনা করি — যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতা লাভ হোক, যারা বিপদে রয়েছেন তাদের নিরাপদ স্থানে আনা হোক। এই অগ্নি দুর্যোগ থেকে আমরা শিক্ষা নেব — হয়তো ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নোট: এই প্রতিবেদনে এমন কিছু তথ্য থাকতে পারে যা ভবিষ্যতে সংশোধিত হবে। সংবাদসূত্র ও সরকারি ঘোষণা অনুসারে বিস্তারিত তথ্য আপডেট করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ