নিজস্ব প্রতিবেদক | নবীনগর, ব্রাহ্ম
< class="separator" style="clear: both;">
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর জয়নুদ্দীন বাড়িতে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মৃত দুই শিশু হলো মরহুম হাবিব মেম্বারের ছেলে জামাল ভাইয়ের সন্তান। নিহতরা দুই ভাইবোন—বড় মেয়েটির বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর, আর ছোট ছেলেটির বয়স ছিল ৬ বছর। পরিবারের একমাত্র আদরের সন্তানদের এভাবে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন বাবা-মা ও স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১টার দিকে দুই ভাইবোন বাড়ির পাশের পুকুরে খেলতে যায়। কিছুক্ষণ পর তারা আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাদের খুঁজতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর বিকেল ৩টার দিকে পুকুরে তাদের লাশ ভাসতে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা দৌড়ে এসে শিশুদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে শোকের মাতম শুরু হয়। প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা ছুটে আসেন নিহত শিশুদের বাড়িতে। একসাথে দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী জানান, মরহুম হাবিব মেম্বার এলাকার একজন সৎ ও জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। তার ছেলে জামাল একজন পরিশ্রমী মানুষ। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে সুখেই দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ এমন মর্মান্তিক ঘটনায় তার পরিবার নিঃশেষ হয়ে গেলো বলেই মনে করছেন সবাই।
গ্রামের মানুষ জানান, শিশুদের খেলা করার সময় বড়দের নজরদারির অভাবে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে বর্ষার পর গ্রামের অধিকাংশ পুকুরে পানি বেড়ে যায়, ফলে শিশুদের জন্য তা বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল অভিভাবকদের প্রতি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ছোট শিশুদের পুকুর, নদী বা জলাশয়ের কাছাকাছি একা যেতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদরা।
এলাকাবাসী শিশু দুইটির রুহের মাগফেরাত কামনা করে বলেন—
> “ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তায়ালা এই দুই নিষ্পাপ শিশুকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। গ্রামের মসজিদে, স্কুলে, এমনকি বাজারের দোকানেও চলছে শিশু দুটির স্মৃতিচারণ। সবাই বলছেন—“এমন মৃত্যু কেউ প্রাপ্য নয়।”
মানবিক সংগঠনগুলো শিশু নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে। তারা মনে করেন, শিশুদের নিরাপদ রাখার দায়িত্ব শুধু পরিবারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের। এই দুর্ঘটনা আমাদের সবাইকে আরও সতর্ক হওয়ার শিক্ষা দিয়ে গেলো।
নতুন সংবাদ পেতে চোখ রাখুন jhalokhati news
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
0
মন্তব্যসমূহ
আমার সম্পর্কে
আমার সম্পর্কে
আসসালামু আলাইকুম ! আমি [মো: আ: রহমান ]। আমি এই ব্লগে শিক্ষামূলক ও তথ্যবহুল কনটেন্ট শেয়ার করি। আমার লক্ষ্য পাঠকদের জন্য সহজ ও পরিষ্কার তথ্য পৌঁছে দেওয়া।
0 মন্তব্যসমূহ
“আমাদের ব্লগে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ! দয়া করে আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং বিনম্রভাবে অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিন।”