ঝালকাঠিতে ৮ কেজি গাঁজাসহ এক পুরুষ ও দুই নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পৃথক অভিযানে ৮ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন পুরুষ এবং দুই নারী রয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারিদের সক্রিয়তার কারণে এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ করে যুবসমাজকে ভয়ঙ্করভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল এই মাদক চক্র। সম্প্রতি ডিবি পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিশেষ তদারকি এবং গোপন অনুসন্ধান চালায়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে দলের একটি বিশেষ ইউনিট অভিযান শুরু করে।
প্রথমে জেলা শহরের উপকণ্ঠে একটি সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল থামানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেলের সিটের নিচে ও পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় প্রায় তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মূল হোতা বলে সন্দেহ করা ওই পুরুষকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে রাত ১টার দিকে ডিবি পুলিশের আরেকটি দল নলছিটি উপজেলার একটি বাড়িতে হানা দেয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে দুই নারী মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছিলেন। তাদের বাসা তল্লাশি করে আরও পাঁচ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযান টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ ঘেরাও করে তাদের আটক করে।
এই তিনজনের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝালকাঠি, বরিশাল, পিরোজপুর সহ আশপাশের অঞ্চলে মাদক সরবরাহ করছিল বলে জানা যায়। তাদের মাধ্যমে বড় একটি মাদক চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলে ডিবি পুলিশ ধারণা করছে।
ডিবি পুলিশের ওসি জানান, “মাদক উদ্ধারে আমাদের তৎপরতা সর্বদা অব্যাহত আছে। যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করেছি। আরও কয়েকটি চক্র সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। খুব শীঘ্রই তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকার বিভিন্ন জায়গায় মাদক কেনা–বেচার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিপথে যাওয়ার শঙ্কা ছিল সবচেয়ে বেশি। পুলিশ এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোয় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও মাঠে নামার উদ্যোগ নিয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর জব্দ করা গাঁজা, মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল থানায় রাখা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবে বলে পুলিশের আশাবাদ।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঝালকাঠি ডিবি পুলিশের এমন উদ্যোগ জেলার মানুষের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে।


0 মন্তব্যসমূহ
“আমাদের ব্লগে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ! দয়া করে আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং বিনম্রভাবে অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিন।”