নওগাঁয় ৯ বছরের শিশু সুমাইয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় ৯ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় এক আমবাগান থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শিশুর নাম সুমাইয়া (৯)। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের পর থেকে সুমাইয়াকে পরিবারের সদস্যরা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বিকেলের দিকে সে প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে খেলতে বের হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পরেও ঘরে না ফেরায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয়রা বিষয়টি থানায় জানান।
পরদিন সকালে উপজেলার চককিত্তলি গ্রামের পাশে আমবাগানের ভেতর ঘাস কাটতে যান স্থানীয় কৃষক অনিলের স্ত্রী। ঘাস কাটার সময় তিনি সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করেন এবং কাছে গিয়ে শিশুর মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি চিৎকার দিলে এলাকাবাসী ছুটে আসে এবং পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পোরশা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হতে পারে। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। শিশুর পরিবারের সদস্যরা শোক ও ক্ষোভে ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয় শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ এই নির্মম ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্তে পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।”
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই জঘন্য অপরাধে যারা জড়িত, তাদের কেউই আইনের চোখ ফাঁকি দিতে পারবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
শিশুটির মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়রা শিশুটির পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে ভিড় করছেন। সামাজিক সংগঠনগুলো এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, দেশে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। তারা পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন সবাইকে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
নতুন সংবাদ পেতে চোখ রাখুন jhalokhati news

0 মন্তব্যসমূহ
“আমাদের ব্লগে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ! দয়া করে আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং বিনম্রভাবে অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিন।”