কাঠালিয়া নাগরিক ফোরাম: ৩ নং আমুয়া ইউনিয়ন শাখার দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল ২০২৫ সম্পন্ন
গত সপ্তাহে কাঠালিয়া জেলার ৩ নং আমুয়া ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হলো কাঠালিয়া নাগরিক ফোরাম শাখার দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল — যেখানে স্থানীয় সম্প্রদায়ের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও গঠনতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই কাউন্সিলে শাখার নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপুর্ণ আলোচনা হয়।
কাউন্সিল উদ্বোধনী বক্তব্যে উপস্থিত নেতারা বলেন, স্থানীয় সরকারের কর্মক্ষমতা ও মানুষকল্যাণে নাগরিক ফোরামের ভুমিকা ও অগ্রাধিকার নিয়ে এবারও নিবিড় আলোচনা হয়েছে। কাউন্সিল শুরু হয় স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে — এরপর সদস্যদের সম্মতিতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।
ঘোষিত কার্যনির্বাহী কমিটি
- প্রতিষ্ঠিত সভাপতি: মোহাম্মদ নকিরুল ইসলাম
- সাধারণ সম্পাদক: জিয়াউল হক
- সাংগঠনিক সম্পাদক: মোঃ সোহেল মাহমুদ
- অন্য সদস্যসহ মোট ২১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভাপতি মোহাম্মদ নকিরুল ইসলাম তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, "আমাদের লক্ষ্য—কমিউনিটির সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা। আমরা স্থানীয় সমস্যা নিরূপণ করে দ্রুত সমাধান দেবার চেষ্টা করব।" তিনি আরও আভ্যন্তরীণ সংহতি ও যুব সমাজের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন।
"কমিটি যে কোনো এক ব্যক্তির কাজ নয় — এটি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্যোগ। আমরা সবাই মিলে কাজ করে স্থানীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখব।" — জিয়াউল হক, সাধারণ সম্পাদক
কাউন্সিলে আলোচনা হয়—পানি সরবরাহ, রাস্তা সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নাগরিক আস্থার পুনর্গঠন এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় দ্রুত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের উপরে। বিজ্ঞ লোকজনের পরামর্শ অনুযায়ী একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো নির্ধারণ করে দ্রুত বাস্তবায়নের পথ তৈরি করা যায়।
বিশেষত যুব সমাজ ও নারীদের ক্ষমতায়ন, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তা এবং স্কুল-শিক্ষা মান উন্নয়নে কমিটি কাজ করবে—এই প্রতিশ্রুতি বারবার প্রত্যয়িত করা হয়। এছাড়া, প্রত্যেক সদস্যকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম তদারকি ও ফলাফল পর্যালোচনার একটি রুটিনও স্থির করা হয়েছে।
স্থানীয়রা কমিটির গঠনকে স্বাগত জানান এবং দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকে মনে করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক কল্যাণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে যদি ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
শেষপর্যন্ত কাউন্সিল সদস্যরা সমাপনী বক্তব্যে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা কার্যকর করার অঙ্গীকার করেন এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে ভলিউমভিত্তিক কাজের অগ্রগতি নিয়ে পুরোদস্তুর রিপোর্ট করার প্রতিশ্রুতি দেন। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় প্রকল্পে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার কথাও উঠে আসে।


0 মন্তব্যসমূহ
“আমাদের ব্লগে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ! দয়া করে আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং বিনম্রভাবে অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিন।”