ঝালকাঠি: আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তনবিরোধী শিক্ষার্থীর মানববন্ধন
ঝালকাঠির পাঠের মঞ্চে বুধবার (২০ অক্টোবর ২০২৫) আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা এক মানববন্ধনের আয়োজন করে। তারা দাবি করেন চলতি মেয়াদে কলেজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কলেজের নাম পরিবর্তন করে 'বাসন্ডা কলেজ' রাখার সিদ্ধান্ত বাতিল করে পূর্বের নাম পুনরায় বহাল রাখা হোক।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য ও শিক্ষাগত সুনামের প্রতীক হিসেবে কলেজের নামটি জনস্বীকৃতি পেয়েছে। "হঠাৎ করেই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে — এটা গ্রহণযোগ্য নয়," এক শিক্ষার্থী গ্রুপের মুখপাত্র বলেন। তিনি আরও বলেন, নাম পরিবর্তনের পেছনে প্রয়োজনীয় জনপরামর্শ ও সরকারি অনুমোদন বিষয়ে পরিস্কার তথ্য দেয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, নাম পরিবর্তন হলে কলেজের সনদ, রেজিস্ট্রেশন, শিক্ষাগত ইতিহাস ও বহির্বিশ্বে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তারা জরুরি ভিত্তিতে নাম পূর্বাবস্থায় ফেরানোর জন্য প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের কাছে দাবি তুলেছেন।
মানববন্ধনটি কলেজ গেট সংলগ্ন প্রধান সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠিত অন্যান্য শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন, যেখানে লেখা ছিল— "আমাদের ইতিহাস, আমাদের নাম ফেরাও", "শিক্ষার মর্যাদা রক্ষা করো"। স্থানীয় সাধারণ মানুষও মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তাদের সমর্থন জানায়।
স্থানীয় শহর প্রশাসনের প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি ও ছাত্রনেতারা উল্লেখ করেছেন যে, নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সভ্য প্রতিফলন ও মতামত গ্রহণ করা উচিৎ ছিল। এক স্থানীয় নাগরিক বলেন, "একটি প্রতিষ্ঠানের নাম সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচয়। সেটি সহজে পরিবর্তন করা ঠিক নয়।"
কলেজের বর্তমান প্রশাসনিক দিক থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা যদি তাদের দাবি বাস্তবায়িত না দেখতে পান তাহলে তারা আরও বৃহৎ কর্মসূচি নেওয়ারও আন্দেশ দিয়েছেন—শান্তিপূর্ণ সরকারী স্মারকলিপি জমা এবং উচ্চতর কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ করার চেষ্টা।
এ বিষয়ে জেলায় থাকা শিক্ষা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডের একজন কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রক্রিয়াটি সরকারি বিধি ও প্রবিধানের আওতাধীন। কোনো পরিবর্তন সম্পন্ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট নথি, স্থানীয় সরকারি অনুমোদন ও বোর্ড সম্মতি প্রয়োজন। তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি স্মারকলিপি উপজেলার ক্রীড়া কমিটি ও শিক্ষা অফিসে অনুরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রদান করে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন। এলাকাবাসীও এই দাবিতে তাদের সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে।
এই ঘটনার ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আমরা সতঘরে আপডেট দেবো।


0 মন্তব্যসমূহ
“আমাদের ব্লগে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ! দয়া করে আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং বিনম্রভাবে অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিন।”