দুপুরের মধ্যে দেশের আট জেলায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি প্রভাবের কারণে দুপুরের মধ্যেই ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস
শনিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে উপকূলীয় এলাকা ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে দুপুর পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারাদেশের আবহাওয়া চিত্র
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ ১২০ ঘণ্টার (পাঁচ দিনের) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়—
রংপুর বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণও হতে পারে।
তবে সার্বিকভাবে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
জনসাধারণের জন্য নির্দেশনা
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, হঠাৎ দমকা বাতাস এবং বজ্রপাতের কারণে সাধারণ মানুষকে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে—
খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে গাছের নিচে না দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
নৌযান ও ছোট ট্রলারগুলোকে নদীবন্দরে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
কৃষিজমিতে কাজ করা বা মাঠে অবস্থানকারী মানুষদের দুপুর পর্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের সতর্কতা
উপকূলীয় জেলা যেমন বরিশাল, পটুয়াখালী ও কক্সবাজারে ঝড়ো হাওয়ার কারণে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, যদিও এটি কোনো বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় নয়, তবুও ঝড়ো বাতাসের কারণে ছোট নৌযান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশ ও বঙ্গোপসাগরের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর ফলে অক্টোবর মাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি দেখা দিচ্ছে। মৌসুমি বায়ুর এই সক্রিয়তা বজায় থাকলে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপসংহার
সার্বিকভাবে বলা যায়, শনিবার দুপুর পর্যন্ত দেশের আটটি জেলার মানুষকে ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত অনুসরণ করতে হবে এবং নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের পর থেকে বৃষ্টিপাতের মাত্রা কিছুটা কমলেও আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশের মানুষকে তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
---
নতুন সংবাদ পেতে চোখ রাখুন Jhalokhati news
0 মন্তব্যসমূহ
“আমাদের ব্লগে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ! দয়া করে আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং বিনম্রভাবে অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিন।”