ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩ — আহত ২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার সদরদী নামক স্থানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও অন্তত পঁচিশজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর ২০২৫) সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী সিয়াম পরিবহন নামের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি মুহূর্তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সিয়াম পরিবহনের বাসটি ভাঙ্গা উপজেলার সদরদী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। বাসটি রাস্তার পাশে গভীর খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নেন এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। উদ্ধারকর্মীরা জানান, বাসটি উল্টে যাওয়ার সময় প্রবল শব্দে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই মহাসড়কের দুই পাশে শত শত মানুষ জড়ো হয়। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় এক ঘণ্টা পর উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালকের অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কতার কারণেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। তিনি বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছি এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্তে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।”
নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
দুর্ঘটনার পরপরই নিহতদের স্বজনরা হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ভারী হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনার কারণে ওই সময় মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ যানবাহন সরিয়ে সড়কটি স্বাভাবিক করে।
এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা এখন এক মরণব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। চালকদের বেপরোয়া গতি ও অসচেতনতার কারণে প্রতিদিনই প্রাণহানি ঘটছে।” তারা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কে কঠোর নজরদারি ও গতিনিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওই অংশে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে। এখানে পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড বা গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় চালকেরা প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে যান চালান। এলাকাবাসীর দাবি, ওই সড়কের সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত জোরদার করা উচিত।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসা সহায়তা এবং নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একজন জেলা প্রশাসক প্রতিনিধি বলেন, “দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে প্রশাসন আছে, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
“আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা দান করুন।”
— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিদিনের এক দুঃসহ বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজন চালক, যাত্রী ও প্রশাসনের সম্মিলিত সচেতনতা। মানবজীবনের মূল্য অমূল্য — তাই প্রত্যেকের দায়িত্ব নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলা।
— প্রতিবেদক, ফরিদপুর
নতুন সংবাদ পেতে চোখ রাখুন jhalokhati news

0 মন্তব্যসমূহ
“আমাদের ব্লগে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ! দয়া করে আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং বিনম্রভাবে অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিন।”