Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মিরপুরে যাত্রী নামিয়ে বাসে আগুন ও গুলি: অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে হামলার অভিযোগ

মিরপুরে যাত্রী নামিয়ে বাসে আগুন ও গুলি: অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে হামলার অভিযোগ রাজধানীর মিরপুরে দিনের শুরুতেই ঘটে গেল এক রোমহর্ষক ঘটনা। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে মিরপুর-১০ এর সেনপাড়া এলাকায় আলিফ পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনাটি যেভাবে ঘটল কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মেট্রো রেলের ২৬৬ নম্বর পিলারের কাছে ঘটনাটি ঘটে। হঠাৎ করে তিনজন ব্যক্তি বাসটির গতি রোধ করে। এর মধ্যে দুজন বাসে উঠে যাত্রীদের নামিয়ে দেয় এবং বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় নিচে থাকা আরেকজন জানালার কাচে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছে যে যাত্রীরা ভয়ে চারদিকে ছুটতে থাকে। তবে যাত্রীদের কেউ আহত হননি। স্থানীয়রা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, খবর পেয়ে মিরপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে স্বল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে বাসটি আংশিক পুড়ে যায়। তিনি আরও জানান, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, যা ছিল সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা কাফরুল থানার ওসি আল মামুন জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে এটি আলিফ পরিবহনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল। দীর্ঘদিন ধরে পরিবহনটির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এরই জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।” পরিবহন খাতে অস্থিরতা রাজধানীতে পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের সংঘর্ষ ও বিরোধের খবর পাওয়া যায়। প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত করে এসব বাসে। এ ধরনের হামলা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব যদি এভাবে জনবহুল এলাকায় গুলি ও অগ্নিসংযোগের মতো সহিংসতায় রূপ নেয়, তবে তা শুধু পরিবহন খাত নয়, পুরো নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ঘটনার সময় আশেপাশে থাকা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেক দোকানদার সঙ্গে সঙ্গে দোকান বন্ধ করে দেয়। কয়েক মিনিটের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “সকালে এমন ঘটনা দেখে সবাই ভয় পেয়ে যায়। বাসে আগুন ধরানোর পর ধোঁয়ায় পুরো জায়গা ঢেকে গিয়েছিল। আমরা ভাবছিলাম বড় কিছু হয়ে যাবে।” নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি এ ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করেন। তাই এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উপসংহার মিরপুরের এই ঘটনায় যদিও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবু এটি রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় সতর্কবার্তা। পরিবহন খাতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, আজকের ঘটনাই তার বড় প্রমাণ। তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। --- নতুন সংবাদ পেতে চোখ রাখুন jhalokhati news

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ