স্বপ্ন দেখতে হবে বড় — জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান
ঝালকাঠি প্রতিনিধি : “স্বপ্ন দেখতে হবে বড়, কারণ ছোট স্বপ্ন মানুষকে বড় হতে দেয় না”— এমনই অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়েছেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান। তিনি বলেন, “যদি বড় স্বপ্ন দেখো, তবে সামান্য বিচ্যুতি ঘটলেও তুমি সফলতার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।”
আজ ৭ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনী সুরক্ষা কর্মসূচির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্বপ্নসারথি গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান’। এ আয়োজনে সদর উপজেলার ৩৩ জন কিশোরীকে “স্বপ্নসারথি গ্র্যাজুয়েট” হিসেবে সম্মাননা ও সনদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উজ্জ্বল কুমার রায়, পুলিশ সুপার, ঝালকাঠি; এবং মিস দিলারা খানম, উপপরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ঝালকাঠি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মোঃ কাউসার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), ঝালকাঠি।
ব্র্যাকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন রিসান রেজা মোঃ সাহেদ, জেলা ব্র্যাক কোঅর্ডিনেটর; মোঃ আকরামুল ইসলাম, জোনাল ম্যানেজার, সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনী সুরক্ষা কর্মসূচি; মহিতোষ সরকার, ডেপুটি ম্যানেজার; এবং হাসিনা আক্তার, অফিসার, ব্র্যাক ঝালকাঠি।
বাল্যবিবাহ রোধে কিশোরীদের ক্ষমতায়ন
ব্র্যাক ২০২৩ সাল থেকে ঝালকাঠি জেলার চারটি উপজেলায় ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক হাজার কিশোরীকে নিয়ে কাজ করছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও কিশোরীদের নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে। গত ২৭ মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৭টি জীবন দক্ষতা প্রশিক্ষণ সেশন। এসব সেশনের মাধ্যমে কিশোরীরা আত্মবিশ্বাসী, সচেতন ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।
এ বছর ঝালকাঠি জেলায় মোট ১৩০ জন কিশোরী আঠারো বছরে পদার্পণ করেছে। তাদের মধ্য থেকে সদর উপজেলার ৩৩ জন কিশোরীকে নিয়ে এই গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কিশোরীরা তাদের নিজস্ব স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলে, যা উপস্থিত অতিথিদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
অনুপ্রেরণার গল্প ও বার্তা
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় কিশোরীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিজের জীবনের অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তোমরা প্রত্যেকে একটি পরিবারের আলো, সমাজের সম্পদ এবং দেশের ভবিষ্যৎ। নিজের উপর আস্থা রাখো, শিক্ষা ও পরিশ্রমই তোমাদের মূল শক্তি।”
জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“জীবনে সফল হতে হলে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন যত বড় হবে, সাফল্যের পথ ততটাই প্রসারিত হবে। তোমাদের প্রত্যেকে নিজেকে প্রস্তুত করবে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য।”
তিনি আরও বলেন, “বাল্যবিবাহ শুধু একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে না, বরং একটি সমাজ ও জাতির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই মেয়েদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।”
উদযাপনের আবহ ও কিশোরীদের অনুভূতি
অনুষ্ঠানের পুরো সময়জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। উপস্থিত কিশোরীরা ‘স্বপ্নসারথী গ্র্যাজুয়েট’ হয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত ছিল। কেউ হতে চায় শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, কেউবা উদ্যোক্তা— সবাই নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে।
ব্র্যাকের কর্মকর্তারা জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কিশোরীরা শুধু প্রশিক্ষণই পাচ্ছে না, বরং জীবনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আত্মবিশ্বাস অর্জন করছে। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে যাতে ঝালকাঠির প্রতিটি কিশোরী স্বপ্ন দেখতে ও তা পূরণে সাহসী হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতিথিরা গ্র্যাজুয়েট কিশোরীদের হাতে সম্মাননা ও সনদপত্র তুলে দেন। ‘স্বপ্নসারথী গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান’-এর মাধ্যমে কিশোরীদের জীবনে যোগ হলো নতুন অনুপ্রেরণা ও আশার রঙ।
— নিজস্ব প্রতিবেদক


0 মন্তব্যসমূহ
“আমাদের ব্লগে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ! দয়া করে আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং বিনম্রভাবে অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিন।”