Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

কাঠালিয়ায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জেলে গ্রেফতার, ১০ দিনের কারাদণ্ড

কাঠালিয়ায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জেলে গ্রেফতার, ১০ দিনের কারাদণ্ড

কাঠালিয়ায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জেলে গ্রেফতার, ১০ দিনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার প্রশাসন মা ইলিশ রক্ষায় চলমান বিশেষ অভিযানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ১৮ অক্টোবর দুপুর তিনটার দিকে বিষখালী নদীতে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরার অভিযোগে এক জেলেকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. জলিল (৪৫)। তিনি রাজাপুর উপজেলার বড়াইয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।

নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরায় শাস্তি

অভিযান চলাকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকেই পালিয়ে যান, তবে জলিলকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে নিষিদ্ধ জাল ও কিছু ইলিশ মাছ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জহিরুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

প্রশাসনের কঠোর বার্তা

“সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি ইলিশ শিকার করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন ইউএনও জহিরুল ইসলাম। “মা ইলিশ সংরক্ষণ আমাদের জাতীয় দায়িত্ব, কারণ এই সময়টাতেই ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ে।”

অভিযান চলবে পুরো অক্টোবর মাস

তিনি আরও জানান, পুরো অক্টোবর মাস জুড়ে কাঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন নদীতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা আইন অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হবে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগ ইলিশের বংশবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। অনেকেই বলেছেন, সাময়িক কষ্ট হলেও ভবিষ্যতে নদী নির্ভর জেলেরা নিজেরাই এর সুফল পাবেন।

পটভূমি: কেন এই অভিযান?

সরকার প্রতিবছর অক্টোবর মাসে ২২ দিনব্যাপী মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনা করে। এই সময়ে সারাদেশে ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুদ ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। কারণ এই সময়টাতেই মা ইলিশ ডিম ছাড়ে এবং প্রজনন করে। তাই এই নিষেধাজ্ঞা মানলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

কাঠালিয়া উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অফিস, নৌ-পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করছে।

শেষ কথা

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানকে সফল করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। প্রশাসনের উদ্যোগে কাঠালিয়ার নদীজীবী সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ ইলিশসম্পদ গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।


#ঝালকাঠি #কাঠালিয়া #মাঈলিশ #ইলিশসংরক্ষণ #জহিরুলইসলাম #বাংলাদেশসংবাদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ