রাজधानीয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এক মসৃণ ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের দাবি মূলত বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, নিয়মিত বেতন নিশ্চিৎকরণ, উৎসবভাতা ও অবসরের মতো সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা — যাতে শিক্ষকরা স্থির মনের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন।
সকাল থেকেই দেশের জেলা ও উপজেলা থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি বৃহৎ অংশ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হতে শুরু করে। উপস্থিত কর্মীরা হাতে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন— যেসব স্লোগান সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সেগুলো: ‘শিক্ষক বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে’, ‘বৈষম্য নয়, সমঅধিকার চাই’।
শিক্ষক নেতারা জানান, তারা পূর্বেও তাঁদের দাবি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন; কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরেও সন্তোষজনক কোনও ফলাফল মেলেনি। তাদের কথায়, “শিক্ষার মানমানোন্নয়ের জন্য শুধু স্কুল-কলেজের অবকাঠামো যথেষ্ট নয়— শিক্ষকের জীবিকা ও মানসিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।”
অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেয়া এক শিক্ষার্থীও বলেছে— “আমার মা একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক। কোনো কারণে তাদের বেতন বিলম্ব হলে আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে অসুবিধা হয়। শিক্ষকরা যেন স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারেন, তা চাই।”
শিক্ষক নেতারা বিস্তারিতভাবে যে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলো হলো:
- সরকারি শিক্ষকদের মতোই বেতন স্কেল ও ভাতা প্রণয়ন।
- মাসিক বেতন সময়মতো নিশ্চিত করা।
- প্রশিক্ষণ, পেনশন ও অবসর সুবিধা সমতুল্যকরণ।
- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তহবিল বাড়াতে সরকারি সহায়তা ও তদারকি বৃদ্ধি।
কর্মসূচি চলাকালীন শহীদ মিনার ও আশেপাশে নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যৱস্থাপনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে অধিবেশনটি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি— বলে জানান aanweতরা।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। একটি সুদৃঢ় শিক্ষা নীতি গঠনে শিক্ষক-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য।
অবস্থান কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষক নেতারা জানান— যদি স্বল্পসময়ের মধ্যে সরকার থেকে সমাধানমূলক পদক্ষেপ বা প্রতিশ্রুতি না আসে, তবে তারা আরো বৃহৎ আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্ভাব্য পরবর্তী ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে সমবেত অনশন, কর্মবিরতি এবং ঢাকার বাইরে স্থানীয় সমাবেশ ও মানববন্ধন।
সরকারি সূত্র থেকে এখনও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলে কর্মসূচি স্থগিত রাখার সুযোগ থাকবেন এমনটা জানান নেতারা।


0 মন্তব্যসমূহ
“আমাদের ব্লগে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ! দয়া করে আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং বিনম্রভাবে অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিন।”